Thursday , July 18 2019

আশ্চর্যজনক নামাজের সময় ছাড়া এক মিনিটের জন্যও বন্ধ হয়না কোরআন তেলাওয়াত

দীর্ঘ ৯১ বছর যাবৎ সার্বক্ষণিকভাবে কোরআন তেলাওয়াত করা হচ্ছে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ি নওয়াব শাহী জামে মসজিদে। নামাজের সময় ছাড়া এক মিনিটের জন্যও থামেনি কোরআন তেলাওয়াত।

যা ইতিহাসে কোন মসজিদে বিরল ঘটনা। প্রতিদিন দেশ-বিদেশের বহু মানুষ আসেন এ মসজিদটি দেখতে কোরআন তেলাওয়াত শুনতে ও নামাজ পড়তে।

এলাকার জনগণের ঐতিহ্য ও কালের সাক্ষী হিসাবে টিকে থাকা এ মসজিদটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসাবে ঘোষণা করে সরকার মসজিদটির সংস্কার করুক এমনটিই প্রত্যাশা সকলের।

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী নওয়াব শাহী জামে মসজিদ ইসলামী ঐতিহ্য ও কালের সাক্ষী। ধনবাড়ী উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে এ ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি অবস্থিত। ষোড়শ শতাব্দীতে সেলজুক তুর্কি বংশের ইসপিঞ্জার খাঁ ও মনোয়ারা খাঁ দুই ভাই এ মসজিদটির প্রথম খন্ড (এক কক্ষ বিশিষ্ট মসজিদ) নির্মাণ করেন। সম্রাট আকবরের সময় এ দুই ভাই ধনবাড়ীর অত্যাচারী জমিদারকে যখন পরাজিত করে এ অঞ্চলের দায়িত্ববার গ্রহণ করেন, তখন এ মসজিদটি নির্মাণ করা হয়।

বাংলাভাষার প্রথম প্রস্তাবক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা যুক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ধনবাড়ীর বিখ্যাত নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চেীধুরী প্রায় ১২০ বছর আগে এ মসজিদটি সম্প্রসারণ করে আধুনিক রূপ দেন। কড়ি পাথরের মোজাইক করা প্রাচীন স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন এটি। মসজিদের জমিন ও ভেতরের দেয়াল কড়ি পাথরের লতাপাতা আঁকা অসংখ্য রঙিন নকশা রয়েছে। বাইরের দেয়ালেও রয়েছে সিমেন্ট আর কড়ি পাথরের টোরাকাটা নকশা।

চারদিকে চারটি প্রবেশ পথ এবং ৯টি জানালা, ছোট-বড় মোটা ৩৪টি গম্বুজ। বড় ৭টি গম্বুজের প্রত্যেকটির উচ্চতা ছাদ থেকে প্রায় ৩০ ফুট। ধনবাড়ী নওয়াব শাহী জামে মসজিদের মিনার বেশ প্রাচীন এবং আকর্ষনীয়। এর উচ্চতা পৌনে ৫ ফুট এবং প্রস্থ পৌনে ৩ ফুট। এখানে বসে ইমাম খুতবা পাঠ করেন।

মসজিদের দোতলা মিনারটির উচ্চতা প্রায় ১৫ ফুট। এ মসজিদের আরো একটি বৈশিষ্ট্য হলো ১০টি চূড়া বিশিষ্ট তামার চাঁদ, মোঘল আমলের ৩টি ঝাড়বাতি এবং ১৮টি হাড়িবাতি (নারকেল তেলে ব্যবহৃত হতো) বর্তমানে মসজিদের কক্ষে শোভা পাচ্ছে।

শিলালিপিতে ১৩১৯ হিজরিতে মসজিদ নির্মাণে চুন, সুরকি, সাদা সিমেন্ট, কড়িপাথর, লোহার খাম ইত্যাদি ব্যবহার হয়েছে। মসজিদটির সামনে রয়েছে ৭ বিঘা জমির এক বিশাল দিঘী। এখানে মুসল্লিরা ওজু করেন।

দর্শনার্থী ও এলাকাবাসীরা বলেন, মসজিদটি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে বহু দর্শনার্থী আসেন। তারা এখানে নামাজ পড়েন, কোরআন তেলাওয়াত শোনেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মানত করেন।

ধনবাড়ি নওয়াব শাহী জামে মসজিদের হাফেজরা বলেন, মসজিদের ভেতর কবরস্থানের পাশে বসে ২৪ ঘন্টা পাঁচজন ইমাম পালাক্রমে কোরআন তেলাওয়াত করে থাকেন।

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী নওয়াব শাহী জামে মসজিদের খতিব ও ইমাম হাফেজ মাওলানা ইদ্রিস হুসাইন বলেন, পীরের নিদের্শনায় কবরের আজাব থেকে মুক্তি পেতে ১৯২৭ সালে সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী এ মসজিদে সার্বক্ষণিক কোরআন তেলাওয়াত করার ব্যবস্থা করেন।

১৯২৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন নওয়াব বাহাদুর সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী। মসজিদের একপাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। তার মৃত্যুর পরও চলমান রয়েছে কোরআন তেলাওয়াত। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক হচ্ছে নামাজের সময় ছাড়া এক মিনিটের জন্যও বন্ধ হয়না কোরআন তেলাওয়াত।